Local News

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়ে যেভাবেই সুশান্তের মৃত্যু হোক – এর দায় কিন্তু কোনভাবেই এড়াতে পারে না থানার পুলিশ কিংবা তদন্তকারী সংস্থা

পশ্চিম থানার লকআপের শৌচাগারে লঙ্কামুড়ার যুবক সুশান্ত ঘোষের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ও জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা দিয়ে তদন্তের জোরালো আর্জি রাখলেন সিপিএম নেতা পবিত্র কর।

পশ্চিম থানার লকআপের শৌচাগারে লঙ্কামুড়ার যুবক সুশান্ত ঘোষের রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ও জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা দিয়ে তদন্তের জোরালো আর্জি রাখলেন সিপিএম নেতা পবিত্র কর।

অপরদিকে এলাকার বিধায়ক ডাঃ দিলীপ দাস আশ্বাস দেন সরকার এই পরিবারটির পাশে থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে অসহায় পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সোমবার উভয় দলের নেতাই মৃতের বাড়িতে গিয়ে পরিজনদের সমবেদনা জানান। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন মৃতের পরিজনেরা।

শোকাহত রাজধানী সংলগ্ন লঙ্কামুড়া এলাকা। এই এলাকার ঘোষ পরিবারের উপার্জনশীল যুবক সুশান্ত যে আর তাদের সাথে নেই সেকথা যেন ভাবতেই পারছেন না স্থানীয় জনসাধারণ। পেশায় মিষ্টি দোকানের ব্যবসায়ী সুশান্তকে এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবেই জানতো সকলেই। তাই তার অকাল মৃত্যু বেদনাহত করে তুলেছে পাড়ার সবাইকে।

পশ্চিম থানার লকআপে সুশান্ত ঘোষের রহস্য মৃত্যুর একদিন অতিক্রান্ত হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে একে একে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন পাড়া পড়শি ও আত্মীয় পরিজনেরা। ঘোষ পরিবারের কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না তাদের প্রিয় মানুষটি যে আর কখনো ফিরে আসবে না।

এটিএম কেলেঙ্কারি মামলায় পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসলো না সুশান্ত। সেকথা মনে হতেই বাড়ির প্রত্যেকের মন বিষাদে ভরে যায়। তাইতো পরিবারের কেউই মানতে পারছেন না যে সুশান্ত লকআপে আত্মহত্যা করেছে। বরাবরই তাদের দাবি পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করে ফাঁসির তত্ত্ব তুলে ধরছে।

এই অবস্থায় সোমবার সকালে তাদের বাড়িতে পা পড়লো শাসক ও বিরোধী দলের নেতাদের। কাকতালীয়ভাবে হলেও এদিন সকালে প্রায় একই সময়ে লঙ্কামুড়ার ঘোষ বাড়িতে হাজির হন এলাকার শাসক দলীয় বিধায়ক ডাঃ দিলীপ দাস এবং সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক পবিত্র কর।

উভয় দলের নেতাই একসাথে কথা বলেন পুলিশ লকআপে মৃত সুশান্ত ঘোষের পরিজনদের সাথে। তখনো থেমে থেমে কান্নার রোল উঠছিল গোটা বাড়িতে। জনপ্রতিনিধিদের কাছে পেয়ে জমে থাকা শোক যেন অশ্রু হয়ে নেমে আসে বাড়ির লোকদের। মৃত যুবকের বাবা মা, বোন, স্ত্রী ও ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ডাঃ দাস এবং পবিত্র কর শোকগ্রস্ত পরিবারটিকে সান্তনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাতে নিহত সুশান্তের বাবা ও আত্মজনেরা এদিনও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করে ন্যায্য বিচার প্রার্থনা করেন।

বাড়ির ছেলে তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু কোন পরিবারে যাতে এধরনের মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি না হয় তারজন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখেন তারা। সাক্ষাতকারে সিপিএম নেতা পবিত্র কর লকআপে সুশান্ত ঘোষের মৃত্যুতে পশ্চিম থানার ভূমিকায় প্রবল ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটিএম মামলার তদন্তে সুশান্ত আগাগোড়াই পুলিশকে সহায়তা করে গেছে। ২ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি তদন্তে সহায়তা করেছে সে। তাই এই তরতাজা যুবকের মৃত্যু নিয়ে সংশয় ব্যক্ত করেন।

যে কারণে এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপের দাবি রাখেন তিনি। বিধায়ক ডাঃ দিলীপ দাস পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বাড়ির প্রত্যেকের সাথে কথা বলে তিনি জানান, পরিবারটি যাতে ন্যায় বিচার পায় এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর পরিবারটি যাতে যথাযথ আর্থিক সহায়তা পায় তারজন্য মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে একটা বাস্তবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিন্তু নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়ে যেভাবেই সুশান্তের মৃত্যু হোক – এর দায় কিন্তু কোনভাবেই এড়াতে পারে না থানার পুলিশ কিংবা তদন্তকারী সংস্থা। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তে এখন কি বেরিয়ে আসে সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.