Local News

ফের এক বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে

সেখানে সঞ্জিব সরকার নামে এক বিচারাধীন বন্দীর গলায় ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রথমে বিশালগড় হাসপাতালে এবং পরে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। পরে মৃতের স্ত্রীর সাথে যে অমানবিক ঘটনায় লিপ্ত হয়েছে পুলিশ তাতে তাদের ধিক্কারই জানিয়েছে এলাকার মানুষ। চলতি মাসের ১১ তারিখেই পশ্চিম থানার লকআপের বাথরুমের জানালার গ্রীলে মাফলার জড়িয়ে ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করে পেশায় বর্ডার গোলচক্করের মিষ্টি ব্যবসায়ী সুশান্ত ঘোষ। ঘটনার পর তার এই মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠে পড়লো।

বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। রাজ্যের অন্যতম চাঞ্চল্যকর এটিএম হ্যাকিং মামলায় সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের পুলিশ সুশান্তকে ২দিনের রিমান্ডেই রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হয় ৩৮ বর্ষীয় সুশান্ত। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এবারের ঘটনাটি ঘটেছে বিশালগড় কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সেখানে সঞ্জিব সরকার নামে এক বিচারাধীন বন্দীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিশালগড় হাসপাতালে নিয়ে আসে সংশোধনাগারের কর্মীরা। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। জানা গেছে তার বয়স ৩৪ বাবার নাম মনীন্দ্র সরকার। বাড়ি তেলিয়ামূড়া থানা এলাকায়। এদিকে স্বামীকে দেখতে এদিনীক ছেলেকে নিয়ে জেলে ছুটে এসেছিলেন তার স্ত্রী শিখারানী বিশ্বাস। কিন্তু জেলের তরফে তাকে কোন কিছু জানানো হয়নি। দীর্ঘ কয়েকঘন্টা বসিয়ে রেখে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় জিবি হাসপাতালে। সেখানে তাকে বলা হয় তার স্বামী ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরদিন এসে তার মৃতদেহ নিয়ে যাবার কথা বলে।

শুধু তাই নয় একটি রিক্সায় করে তাকে চন্দ্রপুর মোটর স্ট্যান্ড এ নামিয়ে হাতে ১ জাগার তাকা গুজে দিয়ে চলে যায়। এই অবস্থায় অসহায় হয়ে তাকে কাদতে দেখে স্থানীয় গাড়ি চালকেরা এগিয়ে এলে তার কথা শুনে হতবাক হয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তার সাথে কি ব্যাবহার করেছে তা সবটাই তুলে ধরেন মৃতের স্ত্রী। এদিকে গাড়ির চালকেরা জানায় একজন লোক কিভাবে জেলের মধ্যে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে সে প্রশ্ন তুললেন। পাশাপাশি এক অসহায় মহিলার হাতে টাকা গুজে দিয়ে এক পুলিশ কর্তার পালিয়ে যাওয়ার পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে সেটাও উঠে আসে তাদের কথায়। জানা গেছে ৭ মাস আগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সেই থেকে সে বিচারাধীন হিসাবে বিশালগড় কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। মারপিটের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে সংশোধনাগারের শৌচালয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে বলে জানা গেছে। কর্মীরা এই অবস্থায়তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার এই রহস্যজনক মৃত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাড়ির লোকেরা। জেলের মধ্যে বিচারাধীন বন্দী কিভাবে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে তা নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। পশ্চিম থানার লকআপে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার পর এবার সংশোধনারের ভেতরে চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যু কান্ডে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের ভূমিকা বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.