Local News

জল থেকে উদ্ধার পচাগলা মৃতদেহ

ছড়ার জল থেকে উদ্ধার হাত-পা-মুন্ডু বিহীন পচাগলা মৃতদেহ। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়লো উত্তর জেলার কদমতলা ধর্মনগর সড়কের লালছড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়।  

এদিন ছড়ার জলের মধ্যে প্রথমে মৃতদেহটি প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় জনসাধারণ। আর এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়  কদমতলা থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে মৃতদেহটি ইছাই বড়ুয়া কান্দি এলাকার ৭ বর্ষীয়া মেয়ে রুমানা বেগমের। কয়েক দিন আগে জলে ডুবে মৃত্যু হওয়ার পর তাকে কবর দিয়েছিলেন বাড়ির লোকেরা। ফের একটি ঘটনায় উত্তর জেলার কদমতলা থানা এলাকায় জনমনে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। ধর্মনগর সড়কের লালছড়া বাজার এলাকার ব্রিজের নিচে ইছাই ছড়ার জলে ভাসমান অবস্থায় মঙ্গলবার সাতসকালে কিছু পথচারী হাত পা মুন্ডু বিহীন পচাগলা দেহ দেখতে পেয়ে খবর দেয় কদমতলা থানায়। 

আর এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রাজীব সূত্রধর, কদমতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান শতাধিক স্থানীয় জনসাধারণ। দেহটি প্রত্যক্ষ করে সেটি একটি নাবালিকা মেয়ের বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়। যেহেতু মাথা হাত পা নেই সুতরাং শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়ে পুলিশের। পরবর্তী সময়ে পুলিশ জানতে পারে মৃতদেহটি ইছাই বড়ুয়া কান্দি ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মকবুল আলির ৭ বর্ষীয়া মেয়ে রুমানা বেগমের। 

তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ জানতে পারে গত ৪/৫ দিন পূর্বে রুমানা বেগমের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল। যথারীতি পরিবারের লোকেরা মেয়ের দেহ কবরে দাফন করেন। কিন্তু সোমবার রাতে কবরের পাশের বাড়ির একটি কুকুর মুখে তুলে সেই দেহের একটি হাত বাড়িতে নিয়ে আসলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঐ বাড়ির লোকজন। সাথে সাথে মকবুল আলীকে খবর দিলে মেয়ের বাবা ওই হাতটি নিয়ে আবার কবরে দাফন করে দেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ছড়ার জলে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হয় দেহের অবশিষ্টাংশ। যে ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে যায়। এদিকে কদমতলা থানার পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে রুমানা বেগমের কবরস্থানে গিয়ে কবর খুঁড়ে দেখেতে পায় দেহটি যথাস্থানে নেই। 

শুধু একটি হাত সেখানে পরে রয়েছে। মাথা, দুই পা ও আরেকটি হাতের হদিস নেই। পাশাপাশি ছড়ার জল থেকে অবশিষ্ট দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। থানার ওসি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।  তবে কবর থেকে দেহ গায়েব কান্ডে জন্তু জানোয়ারের কীর্তির পাশাপাশি অন্য রহস্য রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ওঝা বৈদ্যদের ঝাড়ফুঁক কিংবা তন্ত্রমন্ত্র কি যুক্ত রয়েছে – সেটাও একটা বড় কারণ হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়েছে। একমাত্র পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে ঘটনার প্রকৃত রহস্য।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.