Local News

মঙ্গলবার থেকে ত্রিপুরায় লকডাউনঃ মুখ্যমন্ত্রী।


মঙ্গলবার থেকে লকডাউন করা হচ্ছে রাজ্যকে। আজ মহাকরণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন মঙ্গলবার দুপুর দুইটা থেকে লকডাউন করা হবে রাজ্যকে। গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এর থেকে ত্রিপুরাকে মুক্ত রাখার জন্যই রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন রাজ্যবাসীর প্রতি দৃঢ়ভাবে আহ্বান রাখেন যে তারা যেন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হন। বের হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ফের খুব দৃঢ়ভাবে সীমান্ত কারফিউ জারি রাখার কথা উল্লেখ করেন। যাতে রাজ্যে, বাংলাদেশ থেকে কেউ প্রবেশ করতে না পারে। সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যাবতীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের এ বিষয়ে বলা রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রাম প্রধান ও ভিলেজ কমিটির চেয়ারম্যানদের বিশেষ ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এলাকায় যাতে কোন বাংলাদেশী নাগরিক প্রবেশ করতে না পারে, এ বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখার জন্য। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিডিওদেরও এ বিষয়ে সজাগ থাকার জন্য বলা হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি কারোর বাড়িতে থেকে থাকেন তবে তাদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সাহায্য করার জন্য বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এসব ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনৈতিক বা বে-আইনি কিছু পাওয়া যায় তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে যদি কোন চিকিৎসা কাজে যুক্ত চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মীর প্রান হানি হয় তাহলে চার লক্ষ টাকা পরিবারকে দেওয়া হবে।

এছাড়াও তিনি বলেন রাজ্যে যে সকল সামাজিক ভাতা প্রাপক রয়েছেন (প্রায় ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার) তাদের দু মাসের অগ্রিম ভাতা (এপ্রিল এবং মে মাস) প্রদান করা হবে।
অন্তোদয়,অন্নপূর্ণা যোজনায় এবং প্রায়োরিটি গ্রুপের যে সমস্ত পরিবার দুই টাকা কেজি দরে চাল পায় তাদেরকে বিনামূল্যে ১৫ দিনের অগ্রিম চাল প্রদান করা হবে। ( মোট পরিবার ৫ লক্ষ ৮৬ পরিবার)

মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে মিড ডে-মিলের আওতায় (সর্বমোট ৪ লক্ষ ৩২হাজার ২৭৯জন) যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা রয়েছে তাদের ১৫ দিনের চাল,ডাল বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে যে সকল শিশু(৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৫৩) এবং গর্ভবতী মহিলা সহ অন্যান্য সুবিধাভোগীরা আছেন, তাদের চাল বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শ্রী দেব বলেন শহরাঞ্চলে যারা টুয়েপেরর কাজে যুক্ত শ্রমিক রয়েছেন তাদের কাজের জন্য ৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে এম জি এন শ্রমিকরা এই পরিস্থিতিতে যাতে কাজের অসুবিধার সম্মুখীন না হয় তার জন্য ১০ দিনের কাজ প্রদান করা হয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে তাদের স্বাস্থ্যবিধির উপরও যাবতীয় নজর দেয়া হবে।
সরকারি ও বেসরকারি ভাবে প্রায় তিন মাসের খাবার মজুদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি আসাম সরকারকেও পাশে দাঁড়াবার আহ্বান জানান তিনি। বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মচারীদের রোস্টার ডিউটি করার চিন্তাভাবনা রাজ্য সরকারের।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন নিত্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সামগ্রী যাতে মানুষ পায়, সে সকল দোকান খোলা থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া বাকি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ থাকবে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন ১৪৪ ধারা লাগু থাকাকালীন কেউ যদি আইন অমান্য করে তবে তার বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে রাজ্যে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কালোবাজারী না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। কারোর বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি সবাইকে বাড়িতে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি পুলিশের উদ্দেশে বলেছেন যে এপিডেমিক ডিজিস আইন কড়াকড়ি ভাবে লাগু করার জন্য। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ, সাধারণ প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.