Local News

মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা : লক্ষ্য আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার শুরু করেছিল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা’ প্রকল্প। গত ১ অক্টোবর, ২০২০ এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। এক মাস কাটতে না কাটতেই ব্যাপক সাড়া রাজ্যজুড়ে।
আজ, ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের শহরাঞ্চলের ২৪ হাজার ছোট দোকানদার ট্রেড লাইসেন্সের জন্য এই প্রকল্পে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। গ্রামাঞ্চলের আড়াই হাজার ছোট দোকানি তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা’ প্রকল্পে। অর্থাৎ এই ক’দিনেই সাড়ে ২৬ হাজার ছোট দোকানি এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
আগরতলা শহরেই ২২ হাজার ছোট দোকানদার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আট হাজারের ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। সারা রাজ্যে ছোট দোকানদারের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ। সরকারের উদ্দেশ্য, ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে দোকানদারদের আত্মনির্ভতার পথে অগ্রসর করা।

আগে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ মেয়াদী এবং জটিলতায় ভরা। বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রাথমিক উদ্দেশ্যই ছিল লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াকে সরলীকরণ করা। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে কোনও ব্যবসায়ী লোন পাবেন না। তাই তাঁরা যাতে সহজে ব্যাঙ্ক থেকে লোন পেতে পারেন সেটাই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য।

এখন আধার কার্ড থাকলেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে, নিয়মাবলীতে সরকার এমনই সরলীকরণ করেছে। আগে ব্যাঙ্কে গ্যারান্টার হতে হতো স্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে। কিন্তু এখন চুক্তি ভিত্তিক যে কোনও কর্মী যেমন আশাকর্মী, পাম্প অপারেটরররাও গ্যারান্টার হতে পারবেন। অক্টোবরের পয়লা তারিখ থেকে এ পর্যন্ত যে ভাবে ছোট দোকানদের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য উৎসাহ দেখা গিয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট যে সরকার তাঁদের আস্থা অর্জন করেছে। যা অত্যন্ত ইতিবাচক।

রাজ্যে বাণিজ্যের পরিসর বাড়ছে। সাব্রুমে চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে উঠছে বিশ্বমানের লজিস্টিক হাব। গড়ে উঠছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা এসইজেড। তাকে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে উঠবে আরও অসংখ্য ছোট শিল্প-কারখানা। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য, এই কর্মসংস্থানের সুযোগ যেন ত্রিপুরার জনগণই পান। তাতে তাঁরাও যেমন আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হতে পারবেন তেমনই সার্বিক ভাবে ত্রিপুরাও এগিয়ে যাবে স্বনির্ভতার লক্ষ্যে। রাজ্যের যুব সমাজের মধ্যে মানসিকতার গুণগত বদলই সরকারের উদ্দেশ্য।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে লোন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সাফল্য আসছে। নাবার্ড, এসটি-এসসি ওয়েলফেয়ার দপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষ লোন পাচ্ছেন। লোন পেতে যাতে সুবিধা হয় তার জন্য রাজ্য সরকার সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম চালু করেছে।

আজ সচিবালয়ে রাজ্যের বরিষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, আগে লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনীতি হতো। নির্দিষ্ট দলের ক্যাডার না হলে লোন মিলত না। কিন্তু এখন সে সব নেই। যোগ্য ব্যক্তি লোন পাচ্ছেন। পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমার ক্ষেত্রে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম বাবদ হাজার টাকা রাজ্য সরকার দিচ্ছে। তার ঊর্দ্ধে বীমা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকেই প্রিমিয়ামের টাকা দিতে হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যবস্থাও সুদৃঢ় করার ধারাবাহিক কর্মসূচী চলছে রাজ্যে। ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল কম্যান্ড গড়ে ওঠার ফলে এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে অপরাধের ঘটনা।

সামনেই দুর্গাপুজো। মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় বিপ্লব দেব রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কোভিড পরিস্থিতিতে এবার পুজোয় তাঁরা যেন সতর্কতা মেনে চলেন। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা, সময়ে সময়ে হাত পরিষ্কার করার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আবেদন জনিয়েছেন তিনি। কোভিড নিয়ন্ত্রণে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। এক জায়গায় যাতে ভিড় না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। মহারাষ্ট্রের প্রধান উৎসব গণেশ চতুর্থীতে একাধিক বিধি লাগু হয়েছিল। যার ফলে তারপর কোভিড সংক্রমণ এক লাফে বেড়ে যায়নি। অন্যদিকে কেরল সরকার ওনামের সময়ে বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলে সেখানকার সংক্রমণ ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। তাই সকলে সতর্ক থেকেই এবারের শারোদৎসব উদযাপনের আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.