পাহাড় থেকে উধাও হয়ে গেছে কমিউনিস্টরা

ত্রিপুরা স্বশাসিত জিলা পরিষদের নির্বাচনের এই ফলাফল অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। এর আগেও ফলাফলের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ভালো ফল করবে বিজেপি। অস্তিত্বের সংকটে ভুগতে পারে আইপিএফটি। অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক সুরসুরি দিয়ে লাভবান হতে পারে তিপ্রা মথা।

পাহাড় থেকে উধাও হয়ে গেছে কমিউনিস্টরা। সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে যাবে কংগ্রেস। এই ছিল হেডলাইনস ত্রিপুরার পূর্বাভাস। যা অনেকটাই মিলে গেছে। বিজেপি ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও ক্ষমতা দখলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। ১২টি আসনে প্রতিদ্বন্দীতা করে ১০টিতে জয় লাভ করে। আর মাত্র ৪টি আসন পেলে এডিসি চলে যেত একাই বিজেপির দখলে। শরিক আইপিএফটিকে বিশ্বাস করে বিজেপি যে ভুল করেছে তা ভোটের ফলাফলেও প্রমাণিত হয়েছে।

মূলত বিজেপির মূল শত্রু হল বামেরা। আর দ্বিতীয় শত্রু হল এই রাজ্যে কংগ্রেস। বিজেপির দুই শত্রুই পাহাড়ের নির্বাচনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আর যার উত্থান হয়েছে তিপ্রা মথা অর্থাৎ রাজ পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য প্রদ্যুত কিশোরের নেতৃত্বাধীন দল। এই দলটির উত্থান অনেকটাই আইপিএফটির মতো। আজ থেকে দুই বছর আগে পৃথক রাজ্যের স্লোগান দিয়ে উপজাতি ভাবাবেগকে সুরসুরি দিয়ে উপজাতিদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল আইপিএফটি নেতারা। কিন্তু দু’বছরের মধ্যেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়।

একই ভাবে পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের সুরসুরি দিয়ে উপজাতি ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে উত্থান হয় তিপ্রা মথার। কিন্তু এই ভাবাবেগ যে বেশী দিন থাকবে না তা আগামই বলে দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে একক বৃহত্তম পার্টি হিসেবে বিজেপিই আগামীদিনে পাহাড়ে রাজনীতির সুযোগ পাবে। এবার নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব যে সব এলাকাতে সভা ও প্রচার করেছেন অথবা রোড শো করেছেন সেখানে বিজেপি ভালো ফল করেছে। যদিও আইপিএফটি তাদের ভীত আর ধরে রাখতে পারেনি।

এখন পাহাড়ে রাজনীতি হবে বিজেপি বনাম তিপ্রা মথা। তিপ্রা মথার সাথেও বিজেপির সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। এক্ষেত্রে আগামীদিনে তিপ্রা মথার সাথে বিজেপির জোট হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রাজনৈতিক ভাবে এই নির্বাচনের ফলাফলে লাভ বিজেপিরই। দুই বছর আগে পৃথক রাজ্যের স্লোগান দিয়ে উত্থান আইপিএফটির। দু’বছরের মধ্যেই শেষ। একটি আসনেও জয় লাভ করতে পারেনি। এমনকি বনমন্ত্রী মেবার কুমারের স্ত্রীও হেরে গেছেন। রাজস্বমন্ত্রী এন সি দেববর্মার নির্বাচনী এলাকায় ভরাডুবি হয়েছে।

কেন আইপিএফটির এই ভরাডুবি ? মূলত উপজাতিদের সাথে যোগাযোগ না রাখা, মেবার ও মঙ্গলদের অহংকার, দুর্নীতি ও উপজাতিদের ভাবাবেগকে মূল্য না দেওয়ার খেসারৎ দিতে হয়েছে আইপিএফটিকে। এত দ্রুত একটা দলের উত্থান ও পতন রাজ্য রাজনীতিতে নজীরবিহীন ঘটনা। আগামীদিনে যে আর আইপিএফটি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না তা নিশ্চিত। বিজেপির কাছেও তাদের আর গুরুত্ব থাকবে না। পাহাড়েও আর ঢুকতে পারবে না। অর্থাৎ আইপিএফটির সব কুলই ডুবল। উপজাতি রাজনীতিতে সিপিএম এখন ক্লোজ চাপটার। দীর্ঘদিন উপজাতিদের নিয়ে রাজনীতি করেছে সিপিএম। উপজাতি সংরক্ষিত ২০টি আসন তাদের জন্য বরাবরই বরাদ্দ থাকতো। কিন্তু এবারের এডিসি নির্বাচনে একটি আসনও জয়ী হতে পারেনি সিপিএম। এমনকি রাধাচরণ দেববর্মার মতো নেতাকেও ব্যাপক ভোটে হারতে হয়েছে। সিপিএমের এই দুরবস্থার কি কারন ? মূলত দীর্ঘদিন এডিসি শাসন করতে গিয়ে দুর্নীতি, স্বজন পোষণ, ক্যাডাররাজ চালু করা, নেতাদের মধ্যে অহংকার এবং সাধারণ জনগণকে মানুষ বলে মনে না করার কারণেই রাজ্য থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সিপিএমকে। একই ভাবে উপজাতি এলাকা থেকেও এবার বিদায় নিতে হল সিপিএমকে।

উপজাতি এলাকায় আর সিপিএমের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই। কারন যোগ্য নেতৃত্ব নেই। বিশ্বাসযোগ্য আর কোন উপজাতি নেতা নেই সিপিএমে। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে যে ভোট করা যায় না তা এবার নির্বাচনেও প্রমাণিত হয়ে গেছে। অর্থাৎ রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ক্লোজ চাপ্টার হতে চলেছে বামেরা।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.