মাত্র ৫ হাজার টাকা এবং চারটি শাড়ির বিনিময়ে নিজেরই সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অমানবিক ঘটনা।
দিনমজুর পরিবারের আর্থিক উপার্জনের কোন মাধ্যম না থাকলেও তাদের জুটেনি একটি বিপিএল রেশন কার্ড। তাই ইচ্ছের বিরুদ্ধেই চতুর্থ সন্তানকে বিক্রি করে দেয় তারা।
কৈলাশহর গৌরনগর ব্লক এলাকায় এই ঘটনা জানতে পেরে চাইল্ড লাইনের কর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সম্পূর্ণ অমানবিক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা। শুধুমাত্র টাকা পয়সার অভাবে নিজেদের ঔরসজাত সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনা।
রাজ্যেও মাঝেমধ্যেই এধরণের ঘটনা সংবাদের শিরোনামে উঠে আসছে। সেটা বাম জমানাই হোক কিংবা রাম জমানা – সবেতেই একদল অসহায় মানুষ এক নিদারুণ দারিদ্রতা নিয়ে নিত্যদিন জীবন সংগ্রামের কঠোর ঘানি টানছেন।
যার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে এবারকার কৈলাশহর মহকুমার ঘটনা। জানা যায় গৌরনগর ব্লকের ধাতুছড়া গ্রামের এক দিনমজুর পরিবার অত্যন্ত কষ্টে তাদের ৩ সন্তানকে লালন পালন করছিলেন। গত ১৩ জানুয়ারি পরিবারের কর্ত্রী এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
যেটা ছিল ওই দম্পতির চতুর্থ সন্তান। বাড়ির সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নতুন সদস্যকে ভরণপোষণ নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন স্বামী স্ত্রী। তাই দুজনের সহমতের ভিত্তিতে সদ্যজাত সন্তানকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তারা।
যথারীতি এবিষয়ে অসহায় স্বামী স্ত্রী যোগাযোগ করেন পার্শ্ববর্তী এলাকার এক মহিলা আত্মীয়ার সাথে। এরপর সেই মহিলা এবিষয়ে কথা বলেন এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পতির সাথে। সে মোতাবেক পাড়ার এক গৃহবধূ শিশুটিকে কিনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। হাতবদল হিসেবে শিশুটির পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং চারটি শাড়ি প্রদান করা হয়। এদিকে বেশ কয়েকদিন বাদে এই ঘটনাটি নজরে আসে চাইল্ড রাইটস কমিশনের। সে মোতাবেক সোমবার চাইল্ড রাইটসের ঊনকোটি জেলার সদস্যা বিলকিস জাহান কৈলাশহরের পুলিশের সহায়তা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং সেই শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেন।
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জোরালো দাবি উঠেছে। যদিও এতবড় ঘটনার পরেও সেই অসহায় পরিবারটির কাছে অধরা রয়ে গেছে বিপিএল নামক কার্ডটি।
